ফ্যাশন ও স্টাইল

আসছে ঈদে পোশাকের স্টাইলটা কেমন হবে?

কাটছাঁটের পরিবর্তনটাই বা কতটুকু? এসব চিন্তা শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে! তাদের জন্য বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ঘুরে সর্বশেষ ট্রেন্ড নিয়ে এই প্রতিবেদন!


ইডেন কলেজের ছাত্রী রাফা রহমান মার্কেট ঘুরে পোশাক দেখছিলেন! জিজ্ঞেস করতেই বললেন, এখনই কিছু কিনে ফেলার ইচ্ছা নেই! সব দোকান ঘুরে সময়ের চলতি ট্রেন্ড সম্পর্কে ধারণা নেওয়াটাই আসলে মূল উদ্দেশ্য! যাচাই-বাছাই করে তবেই কিনব ঈদের পোশাক! ধানমণ্ডির অরচার্ড পয়েন্টে শপিং করতে আসা ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সানজিদা রহমান মনে করেন, ৎসবের পোশাক যে জমকালো হতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই! তবে পোশাকজুড়ে থাকা চাই আধুনিকতার ছোঁয়া! 

রমজানের প্রথম থেকেই ঈদের আমেজ শুরু হয়ে যায় পুরোদমে! ঈদ কেনাকাটার তালিকায় প্রথমেই আসে পোশাক! কারণ ঈদ আনন্দের বড় একটি অংশই আবর্তিত হয় নতুন পোশাককে ঘিরে! সেই পোশাকটিই যদি মনের মতো না হয় তবে কি চলে? তাই ঈদের পোশাক নিয়ে চিন্তা-ভাবনার শেষ নেই কারোর! বিভিন্ন মার্কেট দর্জিবাড়ি ঘুরে জানা গেল, এবার খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে না ঈদ পোশাকের কাটছাঁটে! সেভাবে চোখে পড়ার মতো স্টাইলও নেই কোনো! প্রচলিত ধারার পোশাকেই সবাই স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে নিচ্ছেন! তবে সাধারণ পোশাকে ভ্যালু অ্যাডের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে ৎসবের রঙ! লেইস, চুমকি, পুঁতি, ব্লক, বাটিক, পট্টি, অ্যাপ্লিক, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, কাটওয়ার্ক ইত্যাদি পোশাকে নিয়ে আসছে জৌলুস! তবে পোশাকে বৈচিত্র্যময় লেইসের ছড়াছড়ি লক্ষণীয়! কেবল লেইস জুড়ে দিয়ে জমকালো সাজে সাজানো হচ্ছে পোশাক! পাশাপাশি ফ্রিল বা কুঁচিও পোশাকের সৌন্দর্যবর্ধন করছে! কাপড় হিসেবে সবসময়ের মতো এবারও রয়েছে সুতির জয়জয়কার! পাশাপাশি এন্ডি কটন, তাঁত, হাফ সিল্ক, সিল্ক, মসলিনটাও চলছে বেশ! ৎসবের পোশাকজুড়ে তো উজ্জ্বল রঙের ছড়াছড়ি থাকতেই হবে! সাধারণ কাটের কামিজে আনারকলি ঢঙ বেশ চলছে এবার! ফ্রক কামিজের আধিক্য তেমন না থাকলেও কলি দেওয়া কম ঘেরের কামিজ থাকছে ঈদ কালেকশনে! হাফ হাতার চেয়ে থ্রি কোয়ার্টার হাতার প্রচলনটা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে! অনেকে আবার গরম থেকে বাঁচতে স্লিভলেসও বেছে নিচ্ছেন! সালোয়ারের ছাঁটে তেমন পরিবর্তন আসেনি! তবে পায়ের নিচের অংশে মোটা করে লেইস লাগিয়ে বিশেষত্ব নিয়ে আসা হচ্ছে অনেক সালোয়ারে! একটু কম কুচির চুড়িদার পায়জামাও পছন্দ করছেন অনেকে! সুতির চেয়ে শিফন, মসলিন, হাফ সিল্ক পাতলা ভয়েলের ওড়নাই বেছে নিচ্ছেন সবাই! সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি একটু লম্বা ফতুয়া কিংবা পাঞ্জাবি ছাঁটের কুর্তা চলছে বেশ! অনেকেই ঈদের দিনটি স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে বেছে নিচ্ছেন হালকা নকশার ছিমছাম এসব পোশাক! সব মিলিয়ে কিছুটা নতুনত্বের মিশেলে আরামদায়ক কাটছাঁটের পোশাকই হলো এবারের ঈদ ট্রেন্ড!

বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের ডিজাইনাররা জানান, এবারের ঈদ পোশাকের রঙ-ঢঙ সম্পর্কে! কে-ক্র্যাফটের ডিজাইনার শাহনাজ খান জানান, পোশাকের কাটছাঁটে তেমন পরিবর্তন থাকছে না! কামিজের উচ্চতা হিসেবে মাঝারি শর্টটাই বেশি চলবে এবার! অন্যবারের মতো কামিজ বা ফতুয়ায় থ্রি কোয়ার্টার হাতার জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবারও! ফ্রক স্টাইল কিংবা কলি দেওয়া কামিজগুলোও একেবারে হারিয়ে যাচ্ছে না! তবে খুব বেশি ঘের দেওয়া পোশাকের প্রচলন নেই এবার! চুড়িদার সালোয়ার এখনও অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে! কে-ক্র্যাফটের এবারের ঈদ আয়োজনে বিভিন্ন মেটেরিয়ালে বানানো টারসেলের সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার থাকছে বলে জানান তিনি! ফ্যাশন হাউস সাদাকালোর ডিজাইনার তাহসিনা শাহিন জানান, প্রতিবারের মতো এবারও ভিন্ন একটি থিম নিয়ে ক্রেতাদের সামনে হাজির হয়েছে সাদাকালো! এবারের ঈদ কালেকশন সেজেছে ফুলের নকশায়! পোশাকের কাটছাঁটে অবশ্য থাকছে একেবারে সাধারণ ধারাটিই! একটু লম্বা কুর্তা পছন্দ করছেন সবাই! অ্যান্ডেজের ডিজাইনার আনিলা হক জানান, এবারের ঈদে কামিজে নিয়ে আসা হয়েছে নতুনত্ব! শর্ট নয়, বরং কিছুটা লম্বা থাকছে কামিজের উচ্চতা! সঙ্গে চুড়িদার ধাঁচের পায়জামা! ওড়নাগুলো একটু কাজ করা লম্বা ধরনের থাকছে! শর্ট স্রদ্বাইপ কলিদার স্টাইলের পোশাকে হালকা ধরনের ডিজাইন থাকছে! বাংলার মেলার ডিজাইনার এমদাদ হক জানান, সবার চাহিদার প্রতি নজর রেখে ভিন্ন ভিন্ন নেক লাইনে তিন ধরনের হাতাই প্রাধান্য পাচ্ছে তাদের ঈদ আয়োজনে! ফ্যাশন হাউস অঞ্জনসের ডিজাইনার শাহীন আহমেদ জানান, রেগুলার ডিজাইনের পোশাকেই সবার আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে! প্রচ গরমের কারণে আরামদায়ক কুর্তা ফতুয়ার ওপরও ঝুঁকছে তরুণ-তরুণীরা! জিন্সের সঙ্গে মানানসই এই পোশাকগুলো হতে পারে ঈদের বিকেলের জন্য আদর্শ! 

রেডিমেড পোশাক কেনার ইচ্ছা না থাকলে এখনই গজ কাপড়ের দোকান থেকে পছন্দসই কাপড় কিনে বানাতে দিয়ে দিন দর্জিবাড়িতে! না হলে ঈদের ভিড়ে ডেলিভারি পেতে দেরি হয়ে যাবে বেশ! তবে পোশাক হোক কিংবা বানানো হোক, আপনার রুচিবোধের প্রকাশটা যেন থাকে ষোলআনা! চলতি ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে বেমানান পোশাক নির্বাচন মোটেই কাম্য নয়! আরামদায়ক পোশাকে ফুটে উঠুক ৎসবের আমেজ!








কোন পোশাকের সঙ্গে কোন ধরনের অর্নামেন্ট'স পরবেন???





কোন পোশাকের সঙ্গে কোন ধরনের অর্নামেন্ট'স পরবেন- এই নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয় অনেক সময়! শাড়ির সঙ্গে মানানসই অনুষঙ্গ যেমন গুরুত্বপুর্ণ তেমনই জরুরি পোশাকের রঙ! 

ফ্যাশন ব্যাপারটির সঙ্গে ম্যাচিং খুব পরিচিত একটি শব্দ! তবে ম্যাচিং বলতে অনেকেই বোঝেন, যে রঙের পোশাক, সে রঙেরই অর্নামেন্টস পরতে হবে! অথবা জুতাটা যেন একই রঙের হয়! আর কাঁধে যে ব্যাগটি নেবেন সেটার রঙও একই হতে হবে! ম্যাচিং কথাটির সঙ্গে এ কথাগুলোর পুরোপুরি মিল না থাকলেও চলবে! সাধারণত ম্যাচিং বলতে একই রঙ বোঝায় না! যেমন ধরা যাক, কেউ সবুজ রঙের একটা শাড়ি পরল! তাই বলে যে তাকে সবুজ রঙের অর্নামেন্টস, ব্লাউজ বা ব্যাগ নিতে হবে তা কিন্তু নয়! সবুজ রঙের শাড়ির সঙ্গে যদি গোল্ডেন বা কালো অর্নামেন্টস পরেন তাহলে আপনার লুকটাই অন্যরকম হয়ে যাবে! ব্লাউজ হচ্ছে ফ্যাশনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ! ব্লাউজের রঙ আর কাটিংয়ের ওপর ফ্যাশন অনেকটা নির্ভরশীল! ব্লাউজ যত স্টাইলিশ হবে ততো ফ্যাশনেবল মনে হবে আপনাকে! তবে সবসময় চেষ্টা করবেন যে রঙের শাড়ি পরবেন সে রঙের না পরে অন্য রঙের ব্লাউজ পরার! শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে অনেক সময় ব্যাগ নেওয়া যায়! তবে যতটা সম্ভব একটু ভিন্ন রঙের ব্যাগ 

নেওয়ার চেষ্টা করবেন! এবারের ঈদে নিজেকে আরও ফ্যাশনেবল করতে আর ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ম্যাচিং শব্দটির সঙ্গে আপনার পরিচিতি থাকা জরুরি! এর আগে অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে ম্যাচিং কী!
ঈদটা যেহেতু গরমে হবে তাই পোশাকের রঙ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটু সচেতন হওয়া উচিত! কালো রঙকে যতটা পারেন এড়িয়ে চলুন, একটা কালারফুল শাড়ি বেছে নিন! নিজেকে গর্জিয়াস লুক দেওয়ার জন্য গর্জিয়াস কাজ করা শাড়ি নিতে পারেন! গর্জিয়াস কাজ বলতে যে ভারী ভারী জর্জেট পরতে হবে তা কিন্তু নয়! সুতির মধ্যেও অনেক জমকালো শাড়ি পাওয়া সম্ভব! মেরুন বা লাল রঙের ব্লকের শাড়িতে কাতানের পাড় আর পাড়ে কপার গোল্ডের কাজ! কাতান পাড়ের মধ্যে গোল্ডেন, সবুজ আর লাল রঙের মিশ্রণ! এখন এ ধরনের শাড়ির ক্ষেত্রে যদি অর্নামেন্টস বাছাইয়ের প্রশ্ন আসে অবশ্যই শাড়ির অপজিট একটা রঙকে অর্নামেন্টসের জন্য বেছে নিতে পারেন! এখানে যদি শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে মেরুন রঙের অর্নামেন্টস পরা হতো তাহলে না আপনার শাড়ি ভালো লাগত, না অর্নামেন্টস হাইলাইট হতো! এখানে শাড়ির পাড়ে যেহেতু কপার গোল্ড আছে, তাই অর্নামেন্টস কপার গোল্ডের হলে মেরুন রঙের শাড়ির ওপর তা বেশ হাইলাইটেড হতো! এখন ম্যাচিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাগ সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ! এখানে একটা সুতির স্টাইলিশ ব্যাগ নেওয়া হয়েছে! মেরুন রঙের ব্যাগের ওপর কালোর সঙ্গে কপার গোল্ডের কাজ রয়েছে, যা শাড়ির সঙ্গে আপনার ম্যাচিং বোধকে সবার সামনে তুলে ধরবে! এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্লাউজ! গরমের সময় স্লিভলেস ব্লাউস পরলে স্টাইলের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন! তবে ব্লাউজের ক্ষেত্রে রঙটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ! এখানে মেরুন রঙের শাড়ির সঙ্গে কপার গোল্ডের ব্লাউজ পরা হয়েছে! শাড়ি পরার ক্ষেত্রে যদি শাড়ির ম্যাক্সিমাম রঙ বাদ দিয়ে আঁচল বা পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজ বানানো হয়, তাহলে দেখতে বেশ ভালো লাগবে! ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার মনে করেন, ব্লাউজ যদি চেক, স্ট্রাইপ বা প্রিন্টের হয় তাহলে তা আরও স্টাইলিশ হয়ে উঠবে! এ তো গেল পোশাকের কথা! এখন আসি মেকআপের ম্যাচিং প্রসঙ্গে! যেহেতু শাড়ির রঙ অনেক উজ্জ্বল তাই মেকআপটাও একটু গর্জিয়াস হওয়া উচিত! মেকআপের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ হচ্ছে চোখ! চোখকে আরও হাইলাইট করতে কপার গোল্ড আইশ্যাডো ব্যবহার করা হয়েছে! আইশ্যাডোর সঙ্গে কাজলকেও হাইলাইট করা হয়েছে! এখানে টানা করে চোখে কাজল দেওয়া হয়েছে! লিপস্টিকের ক্ষেত্রে একটু হালকা মেরুন রঙ ব্যবহার করা হয়েছে! লিপস্টিকের রঙ যদি গাঢ় হয় তাহলে চোখের সাজ বৃথা! চুলের ক্ষেত্রে যদি স্ট্রেইট চুল হয় তাহলে তা ছেড়ে রাখাই ভালো! যদি একটু কার্লি হয় তাহলে একটু পাফ করে পেছনের দিকে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকে নিতে পারেন! বেইজ মেকআপ খুব বেশি নেবেন না! গরমের দিনে মেকআপ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে! এবারের ঈদে এভাবেই যে কোনো এক রঙের ম্যাচিং না করে মিক্সড রঙের ম্যাচিং করে নিতে পারেন; যা আপনাকে আরও স্টাইলিশ করে তুলবে!

No comments:

Post a Comment